স্বপ্নদোষ → ট্রুম্যান লিগ অফ বিজ্ঞান ক্লাব → পর্ব ৩ - শুক্ষকোন আহম্মেদ - Bangla new story - বাংলা গল্প
স্বপ্নদোষ → ট্রুম্যান লিগ অফ বিজ্ঞান ক্লাব
পর্ব-৩
ক্লাসের প্রথম দিনটা ততটা ভালো না গেলেও দুইজন নতুন বন্ধু হলো কাউসারের।কাউসার সকালে ফজরের নামাজটা কোন রকম পড়ে।বিছানায় নিজের একটু সময় লাগানোর চেষ্টা করল।তার মনে হচ্ছে এই গুলাই তার জিবনের সবচেয়ে কঠিন দিন কিন্তু কষ্ট লাগছে না আগের মতো।ভাবছে,সারাদিন বসে বসে কি করবে।এই জন্য তার মাকে ফোন করল।
-এই নাম্বারটি বন্ধ।কিছুক্ষণ পর আবার ট্রাই করুন।
কাউসারের মার ফোন মনে কিছু হয়েছে।এই উছিলায় আব্বাকে কল দিল সে।
-হ্যালো আব্বু।
-আসসালামু আলাইকুম (আজ আগে সালাম দিয়ে আগে লজ্জা দিলো তার আব্বু)
-অলাইকুম আসসলাম।ভালো আছো??
-হুম আলহামদুলিল্লাহ ভালো।তুই???
-আলহামদুলিল্লাহ। আম্মার ফোনের কি হয়েছে???
-তোর আম্মুর ফোনটা নষ্ট হয়ে গেছে।নতুন ফোন নিতে হবে।
-ওওও
-আর কিছু বলবি???
-না মানে।
-কি বলবি তাড়াতাড়ি বল???
-একটা উপদেশ যদি দিতা।
-কি??
-আমি ঘরে বসে বসে কি করব???
-একটা কাজ কর এখন কি মাস??
-ফেব্রুয়ারি।
-বইমেলায় গিয়ে অনেক বই কিন।এতে সময়ও যাবে জ্ঞান অর্জনও হবে।
-এতেই ভাল।
-হুম।তো রাখি। পড়ে কথা হবে ইনশাল্লাহ।
-আচ্ছা।
-রাখি।
-টুত টুত।
কি কি বই নিবে এই চিন্তায় সে অস্থির।কখন বলে সব হুমায়ন স্যার বই।আবার কখনও অন্যান্য লেখকের বই কিনবে।এসব চিন্তা করতে করতে প্রায় অনেক সময় চলে গেল।আজ কলেজে যাওয়ার ছিলনা তারপরেও যাবে।
কি করবে নতুন কলজ স্টুডেন্ট যেতেই হবে।রেডি হয়ে কলজের সামনে সিএনজি থেকে নামতেই শুনল সেই কঠিন আবৃতি। কে যেন সেই কবিতা আবৃতি করছে।কিন্তু তার মনে হচ্ছে এটা ব্যান্ড গাইছে তাই তাদের আবৃতির ভিতরে বাদ্য যোগ করা হয়েছে।সেই বিপ্লবী কন্ঠ -
"ভেঙ্গে দে লৌহ কপাট
ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট "
খুবই বিপ্লবী চেতনা চেতনা ভাব আছে তাদের মাঝে।
ক্লাসে না ঢুকে ডাইরেক্ট সেই আবৃতি যেখানে আছে সেইখানে যাবে সে।আজও অই ধান্দাবাজরা বসে আছে সেই আগের স্থানে।বসে আছে এক ভাঙ্গাচুরা হোন্ডার উপড়ে।অবশ্য মনে হয় আজ সিগারেট ধরাই নাই।পকেটে সিগারেট আছে তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।মনে মনে গালি দিচ্ছে কাউসার।আর বলছে,"শালারা নিজে মরে, মরে কিন্তু মানুষের ক্ষতি কেন করে"এসব ক্ষতি কেন করে তারা" এসব ছাইপাস ভাবতে ভাবতে তার গন্তব্য সে পৌছে গেছে এখনে আজ বইমেলা কলজের তরফ থেকে।আর কনসার্ট। এই কনসার্টি আয়োজন করছে
"বিজ্ঞান ক্লাব" উপড়ে গায়কের সাথে ড্রাম বাঝাচ্ছে জাহিদ।আর গিটারটা বাঝাচ্ছে সুলতানা। কিন্তু গায়কের সুরের ধ্বনি অনেক সুন্দর।কনসার্টের একের পর এক দুর্রন্ত গানে মনটা ভাল হয়ে গেল। কঠিন কনসার্টের পর কঠিন বই কিনার জন্য দোকানে গিয়ে কিছু টাকা উঠাল কাউসার। অসাধারণ কিছু গান শোনোর জন্য বিজ্ঞান ক্লাবকে ধন্যবাদ জানাবে সে।তাই সে বই কেনার পরে সেইখানে গেল সবাই সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।
সুলতানা আগেই দেখেই সে আগে বলল,
-হাই!!!
-আসসালাতু আলাইকুম। (কঠিন লজ্জা দিয়ে কথা শুরু করল এই নিয়ে দুইবার। অফুরন্ত মজা পাচ্ছে কাউসার)
-অ-অলাইকুম আসসালাম।
-কিরে দোস্ত ভালো আসছিস???(অল্পতে
আন্তরিকতা বাড়িয়ে নিয়েছে জাহিদ)
-হুম... আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুই???(কাউসার)
-চলছে।
কাউসার যেই ছেলেটি গান গেয়েছিল সেই ছেলেটির সাথে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে না। খুবই আন্তরিক ভাবে কথা বলতে চায় কাউসার।কিন্তু কোন সুযোগ পাচ্ছে না।
হঠাৎ তার মাথা একটা ছোট্ট বুদ্ধি আসল।সে জহিদের সাহায্য নিয়ে কথা বলতে চায়।
-জাহিদ।
-বল।
-বন্ধু গায়ক বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলব।
-সমস্যা নাই আয়।খুব ভাল লোক।এবার সে ভিপি ভোটে দাঁড়াবে তুই ভোট দিস কিন্তু???
-আচ্ছা দিবো।
-আর সে আমাদের সুলতানার ভাই।তার নাম জিহাদ।
-ওওও।জিহাদ ও জাহিদ।
-হুম।
চলবে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন