© পাঠিকা সংবাদ
পর্ব ১
লেখক : - নীলাদ্রি মুখার্জী
রোমান্টিক বিভাগ
মাঝরাতে টুংটুং শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল অজয়ের, আড়চোখে একবার পাশে শোয়া ভোঁসভোসিয়ে ঘুমানো বৌয়ের দিকে তাকিয়ে মোবাইলটা হাতে তুলে নিয়ে ম্যাসেজ বক্সটা খুলল সে। আহা এ যে দেখি অঙ্কিনী,মেয়েটা একেবারেই ফিদা হয়ে গেছে 'ভালোবাসার নাম রঞ্জনা' পড়ে। কাল থেকেই বলে যাচ্ছে,'আপনার রঞ্জনার সাথে আমার কত মিল','কেন যে আমি আপনার গল্পের রঞ্জনা হলাম না' ইত্যাদি,আর সে সব শুনে স্বভাবতই অজয়ের মনে ভীষণ পুলক জেগেছে। চাদরটা সরিয়ে দিয়ে,বেশ হাসি মাখানো গদগদ মুখে খানিকক্ষন বসে রইল অজয়। আহা কি সুন্দর এই জীবন,যেই না একখানা প্রেমের উপন্যাস হিট হয়েছে ওমনি চারিপাশে সুন্দরী মেয়েদের আনাগোনা বেড়েছে,সবাই গুনমুগ্ধা। তারা চায় অজয়ের সঙ্গে একটু কথা বলতে,একটু দেখা করতে। অবিশ্যি অজয়ও সেটা চায় পুরোদমে,কিন্তু ঐ যে হারামি বন্ধুগুলো,ঐ শালাদের হেব্বি নেটওয়ার্ক। কোথাও যদি অজয়কে দেখেছে নিভৃতে কোন মেয়ের সাথে,ওমনি 'জানেন বৌদি,অজয় সেদিন নীল কুর্তির সাথে বারিস্তায় কফি খাচ্ছিল' 'জানেন কাকিমা,অজয় কাল সন্ধ্যায় কালো পাটিয়ালাকে বাড়ি ছাড়তে গেছিলো' । তাও অজয় সহ্য করে নিত কিন্তু নীল কুর্তিরা যদি ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড ম্যানেজার আর কালো পাটিয়ালারা যদি দুই বাচ্চার মা তায় ভগিনী সম অফিস কলিগ হয় ,তাহলে অকারণে অপবাদ নিতে কার ভালো লাগে বলুন ? এমনিসময় আবার একটা ম্যাসেজ ঢুকল,অঙ্কিনীরই হবে। ইনবক্সটা খুলে ম্যাসেজটা পড়ে নাচতে ইচ্ছা করল অজয়ের,কেননা তাতে লেখা আছে
'শুনুন,কালকের লাঞ্চটা আপনার সাথে করবো। চলে আসবেন হ্যাংআউটে।না শুনব না।ঠিক দেড়টায়'
আহা,আজ সকালটা কি সুন্দর। কোকিলের কুহু কলতানে ঘুম ভাঙল অজয়ের,মাথার পাশের জানলাটা দিয়ে মিঠে বাতাস বসন্তের ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে তার চোখে মুখে। তড়াক করে বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে ঢুকল অজয়।গুনগনিয়ে গান করতে করতে আবেগের বশে শাওয়ারের তলায় খানিকটা নাচ ও হলো। আজকে হলুদ টি-শার্ট পড়ে,ফারারির পারফিউমটা লাগিয়েছে অজয়। একে সোমবার তায় অফিস টাইম,তাই বন্ধুগনের হ্যাংআউটে হ্যাংআউট করতে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। অফিস থেকে পাক্কা একটায় বেরিয়ে ,ঠিক দেড়টায় ফুলবাবু হয়ে হ্যাংআউটে একটা টেবিলে এসে বসল অজয়। আহ্,আজ ঠাকুর মুখ তুলে তাকিয়েছে,খরা লাগা জীবনে আসতে চলেছে স্রোতস্বিনী অঙ্কিনী।ডেট বলে কথা তাও আবার গুনমুগ্ধা পাঠিকার সাথে তাই একটা বেশ বড় সাইজের সিল্ক চকলেট সাথে এনেছে অজয়। একটা ফুলের তোড়াও আনবে ভেবেছিলো কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে ভেবে আর আনা হয়নি। এদিক ওদিক অস্থির ভাবে তাকাচ্ছিল অজয়,এমন সময় দেখতে পেলো আসছে অঙ্কিনী। মুগ্ধতার সঙ্গে দেখল মেরুন শাড়ি,মেরুন সানগ্লাসে মোহময়ী এগিয়ে আসছে তার দিকে। ভায়োলিন বাজতে শুরু করল,সরোদ ও মনে হয় বাজল,নিজের বুকের ঢিপঢিপ পরিষ্কার শুনতে পেলো অজয়। কিন্তু এক মিনিট,অঙ্কিনীর সাথে পাঞ্জাবি পরে হেঁটে আসছে,ওই মর্কটটি কে? হ্যাঁ, অঙ্কিনীর সাথেই তো আসছে দাঁত কেলাতে কেলাতে। দাড়িওয়ালা মালটা অঙ্কিনীর সাথেই এসে বসল অজয়ের টেবিলে। অঙ্কিনী একটু সলজ্জ হেসে বলল
-' অজয়দা,আপনি যে আসবেন তা আমি ভাবতেই পারিনি।'
দাদা !! কাল রাত অবধিও তো শুধুমাত্র অজয় ছিল !! কোন ফুসমন্তরে সেটা অজয়দা হয়ে গেল? দাড়িওয়ালাটা মিটিমিটি হাসছে,গা পিত্তি জ্বলে গেল অজয়ের। রাগ চেপে বলল
-'ইনি কে?'
-'ওহ্ হ্যাঁ, এ হল জীবননাথ দাশ ঠাকুর। আমার বন্ধু।জানেন অজয়দা, ও না দারুণ কবিতা লেখে'
মালটাকে এক লাথ মেরে হ্যাংআউটের ছাদ থেকে ফেলে দিতে ইচ্ছা করল অজয়ের কিন্তু সেই ইচ্ছাটাকে গিলে নিয়ে খাবারের অর্ডার দিলো। এরমধ্যে অবশ্য চকলেট পেয়ে অঙ্কিনী নেকু নেকু করে বলেছে 'হাউ কিউট অজয়দা,আমার সিল্ক খুব পছন্দ' ,কিন্তু তাতে অজয়ের চিঁড়ে ভেজেনি। খাবার খেতে খেতেই আসল কথাটা বেরোল,অঙ্কিনী বলল
-'অজয়দা, জীবন না খুব ভালো লেখে।ওকে একবার আপনার প্রকাশকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন না।' অঙ্কিনীর কথা শুনে ,জীবন আবার মুচকি হাসল, হেসে সুরুৎ করে সুপে চুমুক দিল। অজয়ের মনে হল পকেটে করে একটু সেঁকো বিষ আনলে ভালো হত,মালটার সুপে মিশিয়ে দিলে কবি নিজেই কবিতা হয়ে যেতো। অজয় অঙ্কিনীকে বলল
-'দেখো,প্রকাশককে আমি বললেই যে জীবনের হিল্লে হয়ে যাবে,এমন নয়।' এটা শোনামাত্রই খপ করে অঙ্কিনী হাতটা ধরল অজয়ের,অভিমানের সুরে বলল
-'আপনি আমার জন্য এটুকু করতে পারবেন না অজয়দা?' ব্যাস সমস্ত কথার শেষ,কিন্তু কিন্তু করেও রাজি হয়ে গেল অজয়। জীবন সুপ আর গোটা পাঁচেক ড্রামস্টিক সাবড়ে একটা মধ্যমাপের তৃপ্তির ঢেকুর তুলে অঙ্কিনীর দিকে তাকিয়ে বললো
-'চলো অঙ্কি!!আবার শুভাদার ওখানে যেতে হবে তো।'
-'ও হ্যাঁ, তাই তো!আজ উঠি অজয়দা,থ্যাঙ্কস ফর দা লাঞ্চ, জীবন আপনাকে ফোন করে নেবে।' জীবনের হাত ধরে,সিল্কটা চুষতে চুষতে ঝড়ের গতিতে টেবিল থেকে উঠে বেরিয়ে গেল অঙ্কিনী। হাঁ করে টেবিলে বসে রইল অজয়,ড্রামস্টিকের ছিবড়ে আর বারোশো টাকার বিলটা। বৌয়ের ফোনটা এল মিনিট পাঁচেক পরেই-'হ্যালো,হ্যাঁ ,বাড়ি আসার সময় একটু গাঁদাল পাতা আর তিনশো উচ্ছে নিয়ে আসবে,আর হ্যাঁ সাথে একটু নিমপাতাও এনো।'
part 2 coming soon
লেখেছেন : নীলাদ্রি মুখার্জী
ব্লগের নতুন লেখক
পর্ব ১
লেখক : - নীলাদ্রি মুখার্জী
রোমান্টিক বিভাগ
মাঝরাতে টুংটুং শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল অজয়ের, আড়চোখে একবার পাশে শোয়া ভোঁসভোসিয়ে ঘুমানো বৌয়ের দিকে তাকিয়ে মোবাইলটা হাতে তুলে নিয়ে ম্যাসেজ বক্সটা খুলল সে। আহা এ যে দেখি অঙ্কিনী,মেয়েটা একেবারেই ফিদা হয়ে গেছে 'ভালোবাসার নাম রঞ্জনা' পড়ে। কাল থেকেই বলে যাচ্ছে,'আপনার রঞ্জনার সাথে আমার কত মিল','কেন যে আমি আপনার গল্পের রঞ্জনা হলাম না' ইত্যাদি,আর সে সব শুনে স্বভাবতই অজয়ের মনে ভীষণ পুলক জেগেছে। চাদরটা সরিয়ে দিয়ে,বেশ হাসি মাখানো গদগদ মুখে খানিকক্ষন বসে রইল অজয়। আহা কি সুন্দর এই জীবন,যেই না একখানা প্রেমের উপন্যাস হিট হয়েছে ওমনি চারিপাশে সুন্দরী মেয়েদের আনাগোনা বেড়েছে,সবাই গুনমুগ্ধা। তারা চায় অজয়ের সঙ্গে একটু কথা বলতে,একটু দেখা করতে। অবিশ্যি অজয়ও সেটা চায় পুরোদমে,কিন্তু ঐ যে হারামি বন্ধুগুলো,ঐ শালাদের হেব্বি নেটওয়ার্ক। কোথাও যদি অজয়কে দেখেছে নিভৃতে কোন মেয়ের সাথে,ওমনি 'জানেন বৌদি,অজয় সেদিন নীল কুর্তির সাথে বারিস্তায় কফি খাচ্ছিল' 'জানেন কাকিমা,অজয় কাল সন্ধ্যায় কালো পাটিয়ালাকে বাড়ি ছাড়তে গেছিলো' । তাও অজয় সহ্য করে নিত কিন্তু নীল কুর্তিরা যদি ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড ম্যানেজার আর কালো পাটিয়ালারা যদি দুই বাচ্চার মা তায় ভগিনী সম অফিস কলিগ হয় ,তাহলে অকারণে অপবাদ নিতে কার ভালো লাগে বলুন ? এমনিসময় আবার একটা ম্যাসেজ ঢুকল,অঙ্কিনীরই হবে। ইনবক্সটা খুলে ম্যাসেজটা পড়ে নাচতে ইচ্ছা করল অজয়ের,কেননা তাতে লেখা আছে
'শুনুন,কালকের লাঞ্চটা আপনার সাথে করবো। চলে আসবেন হ্যাংআউটে।না শুনব না।ঠিক দেড়টায়'
আহা,আজ সকালটা কি সুন্দর। কোকিলের কুহু কলতানে ঘুম ভাঙল অজয়ের,মাথার পাশের জানলাটা দিয়ে মিঠে বাতাস বসন্তের ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে তার চোখে মুখে। তড়াক করে বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে ঢুকল অজয়।গুনগনিয়ে গান করতে করতে আবেগের বশে শাওয়ারের তলায় খানিকটা নাচ ও হলো। আজকে হলুদ টি-শার্ট পড়ে,ফারারির পারফিউমটা লাগিয়েছে অজয়। একে সোমবার তায় অফিস টাইম,তাই বন্ধুগনের হ্যাংআউটে হ্যাংআউট করতে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। অফিস থেকে পাক্কা একটায় বেরিয়ে ,ঠিক দেড়টায় ফুলবাবু হয়ে হ্যাংআউটে একটা টেবিলে এসে বসল অজয়। আহ্,আজ ঠাকুর মুখ তুলে তাকিয়েছে,খরা লাগা জীবনে আসতে চলেছে স্রোতস্বিনী অঙ্কিনী।ডেট বলে কথা তাও আবার গুনমুগ্ধা পাঠিকার সাথে তাই একটা বেশ বড় সাইজের সিল্ক চকলেট সাথে এনেছে অজয়। একটা ফুলের তোড়াও আনবে ভেবেছিলো কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে ভেবে আর আনা হয়নি। এদিক ওদিক অস্থির ভাবে তাকাচ্ছিল অজয়,এমন সময় দেখতে পেলো আসছে অঙ্কিনী। মুগ্ধতার সঙ্গে দেখল মেরুন শাড়ি,মেরুন সানগ্লাসে মোহময়ী এগিয়ে আসছে তার দিকে। ভায়োলিন বাজতে শুরু করল,সরোদ ও মনে হয় বাজল,নিজের বুকের ঢিপঢিপ পরিষ্কার শুনতে পেলো অজয়। কিন্তু এক মিনিট,অঙ্কিনীর সাথে পাঞ্জাবি পরে হেঁটে আসছে,ওই মর্কটটি কে? হ্যাঁ, অঙ্কিনীর সাথেই তো আসছে দাঁত কেলাতে কেলাতে। দাড়িওয়ালা মালটা অঙ্কিনীর সাথেই এসে বসল অজয়ের টেবিলে। অঙ্কিনী একটু সলজ্জ হেসে বলল
-' অজয়দা,আপনি যে আসবেন তা আমি ভাবতেই পারিনি।'
দাদা !! কাল রাত অবধিও তো শুধুমাত্র অজয় ছিল !! কোন ফুসমন্তরে সেটা অজয়দা হয়ে গেল? দাড়িওয়ালাটা মিটিমিটি হাসছে,গা পিত্তি জ্বলে গেল অজয়ের। রাগ চেপে বলল
-'ইনি কে?'
-'ওহ্ হ্যাঁ, এ হল জীবননাথ দাশ ঠাকুর। আমার বন্ধু।জানেন অজয়দা, ও না দারুণ কবিতা লেখে'
মালটাকে এক লাথ মেরে হ্যাংআউটের ছাদ থেকে ফেলে দিতে ইচ্ছা করল অজয়ের কিন্তু সেই ইচ্ছাটাকে গিলে নিয়ে খাবারের অর্ডার দিলো। এরমধ্যে অবশ্য চকলেট পেয়ে অঙ্কিনী নেকু নেকু করে বলেছে 'হাউ কিউট অজয়দা,আমার সিল্ক খুব পছন্দ' ,কিন্তু তাতে অজয়ের চিঁড়ে ভেজেনি। খাবার খেতে খেতেই আসল কথাটা বেরোল,অঙ্কিনী বলল
-'অজয়দা, জীবন না খুব ভালো লেখে।ওকে একবার আপনার প্রকাশকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন না।' অঙ্কিনীর কথা শুনে ,জীবন আবার মুচকি হাসল, হেসে সুরুৎ করে সুপে চুমুক দিল। অজয়ের মনে হল পকেটে করে একটু সেঁকো বিষ আনলে ভালো হত,মালটার সুপে মিশিয়ে দিলে কবি নিজেই কবিতা হয়ে যেতো। অজয় অঙ্কিনীকে বলল
-'দেখো,প্রকাশককে আমি বললেই যে জীবনের হিল্লে হয়ে যাবে,এমন নয়।' এটা শোনামাত্রই খপ করে অঙ্কিনী হাতটা ধরল অজয়ের,অভিমানের সুরে বলল
-'আপনি আমার জন্য এটুকু করতে পারবেন না অজয়দা?' ব্যাস সমস্ত কথার শেষ,কিন্তু কিন্তু করেও রাজি হয়ে গেল অজয়। জীবন সুপ আর গোটা পাঁচেক ড্রামস্টিক সাবড়ে একটা মধ্যমাপের তৃপ্তির ঢেকুর তুলে অঙ্কিনীর দিকে তাকিয়ে বললো
-'চলো অঙ্কি!!আবার শুভাদার ওখানে যেতে হবে তো।'
-'ও হ্যাঁ, তাই তো!আজ উঠি অজয়দা,থ্যাঙ্কস ফর দা লাঞ্চ, জীবন আপনাকে ফোন করে নেবে।' জীবনের হাত ধরে,সিল্কটা চুষতে চুষতে ঝড়ের গতিতে টেবিল থেকে উঠে বেরিয়ে গেল অঙ্কিনী। হাঁ করে টেবিলে বসে রইল অজয়,ড্রামস্টিকের ছিবড়ে আর বারোশো টাকার বিলটা। বৌয়ের ফোনটা এল মিনিট পাঁচেক পরেই-'হ্যালো,হ্যাঁ ,বাড়ি আসার সময় একটু গাঁদাল পাতা আর তিনশো উচ্ছে নিয়ে আসবে,আর হ্যাঁ সাথে একটু নিমপাতাও এনো।'
part 2 coming soon
লেখেছেন : নীলাদ্রি মুখার্জী
ব্লগের নতুন লেখক
নীলাদ্রি মুখার্জী
ব্লগে গল্পটি পোস্ট দিয়েছেন - মোহাম্মদ জাহিদ [ my facebook fun ] groups admin


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন