অপ্রাপ্তি. শামিম ভাই

অপ্রাপ্তি
লেখক : শামিম

অপ্রাপ্তি
----------------
লেখক:-- Shamim AL Hasan Sawon
কলেজের পিছের ছোট মাঠে ছোট বাচ্চারা
খেলাধুলা করে। এখানে বড় রা খেলে না। তন্দ্রা
এখানে প্রায়ই আসে। এসে চুপচাপ বসে থাকে।
বসে বসে বাচ্চাদের উদ্ভট সব কান্ড দেখে।
এসব ওকে কোনো ভাবান্তর দেয়না।
যেমনভাবে আসে ঠিক তেমন ভাবেই আবার বাড়ি
ফিরে যায়।
আজকেও কলেজে না গিয়ে এখানে এসে বসে
রয়েছে। বাচ্চারা ফুটবল খেলছে। কিন্তু ও
সেদিকে না দেখে নিচের দিকে তাকিয়ে কি
যেন ভাবছে। ভাবছে যে ও সেই আগের মত
ভীতুই রয়ে গেল। শুধু বড়ই হলো কিন্তু সাহসটা
আর বাড়লো না।
কালকে রাতে আবার ওর সুইসাইড করার ইচ্ছে
হয়েছিল। তবে ঘুমের ওষুধগুলো হাত থেকে
আর মুখে দেয়া হয়নি। হাতটা তার বার বার কেপেঁ ওঠছিল,,,সাহসে কুলোয় নি। প্রথম
যেদিন ওর সুইসাইড করার ইচ্ছে জন্মেছিল সেটা
আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে। তন্দ্রার বাবা মারা
যাওয়ার পর।
যেদিন তার মা আবার বিয়ে করে সেদিন
থেকে। তন্দ্রার বাবা ওকে খুবই ভালবাসতেন। কিন্তু
ওর বাবা মারা যাওয়ার পর তন্দ্রার মা যখন দ্বিতীয় বিয়ে
করে সেদিনই সে প্রথমবারের মতো সুইসাইড
করবে বলে মনে করেছিল। কিন্তু সেই ভাবনা
আজ পর্যন্ত কার্যকর করতে পারেনি সেটা নিয়েই
তন্দ্রার যত আফসোস।
আপাতত ও এখন সেই চিন্তাটা বাদ দেয়ার চেষ্টা করল।
সামনে তাকাতেই একটি ছেলেকে মাঠে
প্রবেশ করতে দেখলো। ছেলেটাকে সে
চিনে।
ওর নাম উৎস। তন্দ্রার ক্লাসমেট। আর ও এটাও
জানে যে সে ওর কাছেই আসছে। এখন দুনিয়া
উল্টে গেলেও ছেলেটা ওর সামনে আসবেই
আসবে।
ছেলেটা এসেই বলল
- বসতে পারি?
(উত্তরের অপেক্ষা না করেই ওর পাশে বসে
পড়ল। কারণ সে জানে তন্দ্রা কিছু বলবে না। ও
বেশি কথা বলে না। যা বলার ও একাই বলে যায়)
- আজকের আকাশ টা অনেক সুন্দর তাইনা...?(উৎস)
- হুম(তন্দ্রা)
- আজকে কলেজে যাওনি কেনো?
- ইচ্ছে হয়নি
- আমারো আর ইচ্ছে হলো না। তাই ক্লাস ফাঁকি
দিয়ে এখানে চলে এলাম। আমি জানি তুমি এখানেই
থাকবে।
- ও
- তুমি ফুটবল খেলতে পারো?
- না
উৎস কি বলবে আর খুঁজে পায়না। কিছুক্ষন চুপ করে
থেকে আবার বলে
- আমি তোমার কাছে কেনো আসি জানো? কারণ
তোমার আশে পাশে থাকলেই কেমন যেন একটা
ঘোর লাগা ব্যাপার তৈরি হয়। সেই ঘোরে এক
ভীষণ ভাললাগা কাজ করে। হি হি... অদ্ভুত ব্যাপার
তাইনা?
তন্দ্রা এবার কিছু বলে না। ছেলেটা আবার বলে
- আচ্ছা তোমার কখনো এমন কিছু হয়না? কারো
জন্য?
তন্দ্রা ওসব কথার আগা মাথা কিছুই বুঝে না। কিসের
ঘোরগালার কথা ছেলেটা বলল। তবে ঘোরের
কথা শুনে তন্দ্রার কেমন যেন ঘুম পেয়ে
যাচ্ছে। এখন ওর বাসায় যাওয়া দরকার। ঘুমাতে হবে।
- আমি এখন বাসায় যাবো। ঘুমাবো...
এটা বলেই সে উঠে চলে গেল। বাসায় এসে
সোজা নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। কেউ
ওকে জিজ্ঞাস করল না যে কলেজে আজ কি
হলো। এতো তাড়াতাড়ি কেনোই বা সে চলে
এলো।
.
(ছেলেটা সম্পর্কে আরো কিছু জেনে নেয়া
যাক। তাকে মোটামোটি বড়লোক ঘরের সন্তানই
বলা চলে। তবে চলাফেরা বেশ সাধারণ) তবে
ওকে দেখে ক্লাসের কিছু মেয়ের বুকে
ধড়ফড়ানি শুরু হয়ে যায়। তারা ওর কাছে আসায় চেষ্টা
করেছে অনেক ভাবেই। কিন্তু সেই ছোট
বেলা থেকেই ওর পছন্দ তন্দ্রা নামের মেয়েটি।
তাই আর কারো দিকে সেভাবে মনোযোগ
দেয়া হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তন্দ্রা সেসব নিয়ে
কখনো কিছু ভাবেনি। আগে ছেলেটার
কাজকর্মে সে খুবই বিরক্ত হতো কিন্তু এখন আর
কিছু মনে হয়না। ভালোও লাগে না খারাপও লাগে না।
একদম অনুভূতিহীন। উৎস মাঝে মাঝে ভাবে এমন
একটা মেয়েকে সে ছাড়া আর কেউ ভালবাসবে
না। তাই যত কিছুই হোক তাকে ওর পাশে থাকতে
হবে।
.
দেখতে দেখতে কলেজের শেষ দিনটা চলে
এলো। এরপর কে কোথায় যাবে কিছু ঠিক নেই।
তাই এবার ওকে কিছু একটা করতেই হবে। ভালবাসার
শেষ অথবা শুরু টা দেখতে হবে। বিদায় অনুষ্ঠানে
এসে সে তন্দ্রাকে পাগলের মতো খুঁজতে
লাগলো। কিন্তু কোথাও তার দেখা মিলল না। খুব
খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তন্দ্রাকে পাওয়া
গেল। ক্যাম্পাসের পাশের পুকুরপাড়ের জারুল
গাছটার নিচে বসে আছে সে। একা একা যেভাবে
থাকে ঠিক সেভাবেই। উৎস দৌড়ে তন্দ্রার কাছে
গেল। তারপর ধুপ করে তার তার পাশে বসে
পড়লো। এরপর ওর নাম ধরে ডাকলো
- তন্দ্রা
ডাক শুনে তন্দ্রা ওর দিকে ঘুরে তাকালো। উৎস
বলল
- তুমি কি চাও? আমি তোমার জীবনে আসি নাকি চলে
যাই?
তন্দ্রা কোনো কোন জবাব না দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে
সামনে তাকালো।
- প্লিজ তন্দ্রা আজকে অন্তত চুপ করে থেকো
না। কিছু একটা বলো প্লিজ...
তন্দ্রার আজ কিছুই ভাল লাগছে না। তার ওপর এই পাগল
ছেলেটা আবার পাগলামো শুরু করে দিছে।
কেনো এমন করে ও। কেনো তাও ওকেই
ভালবাসে।
তন্দ্রা এবারো কিছু না বলে উঠে চলে যেতে
লাগলো। আজ ওকে খুব জরুরি একটা কাজ করতে
হবে। কিন্তু উৎস এবার ওর হাত ধরে ফেলল।
- তোমাকে আজ জবাব দিতেই হবে। তোমাকে
বলতেই হবে তুমি আমায় ভালবাসো কি না। বলো...
আন্সার মি...
কথাগুলো খুব জোড়েই বলল। মনে হয়না আজ
এই ছেলেটা ওকে এতো সহজে যেতে
দিবে। তন্দ্রা এবার অদ্ভুত একটা কাজ করল।
ছেলেটার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো।
এভাবে কিছুক্ষন পর যখন ও তাকালো দেখলো
ছেলেটা অবাক চোখে ওর দিকে চেয়ে
আছে। এরপর হঠাৎই তার চোখজোড়া খুশিতে
উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। খুশিতে লাফাতে লাফাতে
বলল
- তারমানে তুমি আমায় ভালবাসো?
ছেলেটাকে এমন খুশি হতে দেখে তন্দ্রারো
হাসি পেয়ে গেলো। একটু মুচকি হেসে বলল
- আমি তাহলে এবার আসি
ছেলেটা আর কিছু বলল না। তন্দ্রার যাওয়ার পথে
চেয়ে রইলো। তার চোখ কেমন যেন ঝাপসা
হয়ে আসছে। খুব প্রিয় কিছু পাওয়ার আনন্দে
বোধহয় চোখে জল এসে গেছে।
.
তন্দ্রা ওর জরুরি কাজ টা করার জন্য বাসায় এসে ওর
রুমে ঢুকে দরজা টা লাগিয়ে দিলো। ঘরের
ভেতরে থেকেই সে শুনতে পেল ওই
জানোয়ার টা তার মাকে আবার মারছে। ওই জানোয়ার
টাই ছোট বেলায় একদিন তার সাথে জোড়
জবরদস্তি করেছিল। এই কথা সে কখনো কাউকে
বলতে পারেনি। অথচ যখন দেখলো একেই তার
মা বিয়ে করে নিয়েছে সেদিন থেকেই ও সব
অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছিলো। আজ তাকেও
হারিয়ে যেতে হবে। ড্রয়ার থেকে ঘুমের ওষুধ
গুলো বের এবার ও করে চট করে সেগুলো
মুখে নিয়ে নিলো। তারপর কয়েকঢোক জল
খেয়ে শুয়ে পড়লো। চোখটা বন্ধ করার আগে
একবার ছেলেটার সেই খুশি খুশি চেহারা টা মনে
হলো। বোকা ছেলেটা হয়তো ধরেই
নিয়েছে ওকে সে পেয়ে গেছে। ঠোঁটের
কোণে একটু মুচকি হাসি নিয়ে তন্দ্রা চোখটা বন্ধ
করে ফেলল। তাকে পাওয়া টা ছিলো শুধু এই
একদিনই...
----------অনুভূতিহীন লেখক


আমাদের ব্লগের নতুন লেখক


মন্তব্যসমূহ