গল্প --- চোখের হাসি দর্শন - লেখক - গাজী জুনায়েত রাসেল

👌

চোখের হাসি দর্শন
গাজী জুনায়েত রাসেল


           আমি যখন যখন ফরিদপুর রেলস্টেশনের বেঞ্চে একাকী বসেছিলাম তখন সময়টা ছিলো বড় অদ্ভুত রকমের সুন্দর। পড়ন্ত বিকেল;রেল ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত রেললাইন বরাবর উপরে অবস্থিত ধাতব পাইপ গুলো দিগন্তবিস্তৃত লাল-হলুদ সূর্যটাকে আড়াল করতে চেয়েও ব্যার্থ। স্টেশনের অদূরে মস্ত এক তেতুল গাছের নিকটে বেঞ্চ;সেখানে বসেই পানসে বাদাম চিবুচ্ছি আর মনে মনে বাড়ি যাওয়ার তারিখ স্থির করছি।

এমন সময় কোথা থেকে এক হকার আসলো। পড়নে ময়লা প্যান্ট তবে শার্ট টা তুলনামুলক নতুন। আমড়া বিক্রি করেন,গামলায় গোটা কতক এখনো আছে। আমার আশেপাশে জনমানব নেই,শুধু আমি একা বেঞ্চে বসা। হয়তো এই কারনেই আমার কাছে আসতেই  "আমড়া লাগবে,আমড়া?" না বলে বললো "আমরা নিবেন?"।

--না।
--খাইয়া দেখেন,ভালো আমড়া।

বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকালাম। আমি দার্শনিক নই তাই তোমার তলানির আমরা কিনে তোমাকে উদ্ধার করার ইচ্ছা নেই;একই কারনে আমার এই বিরক্তিকর দৃষ্টিও স্বাভাবিক এমনটাই বুঝানো গেলো ওই চাহনির মাধ্যমে। হকার কি বুঝলো জানি না,বলে বসলো "নেন,দুইডে পাঁচ টাহা দিয়েন"।

একটা বিশেষ কারণে এইবার আর বিরক্ত হতে পারলাম না। বয়স আর কত,কয়েকদিন পর আঠারো হবে। তবুও দ্বিগুণ বড় কারো কাছ থেকে আপনি ডাক? নিজের বাবার দেয়া টাকায় পরিপাটি ছদ্মবেশের কি এতই ক্ষমতা যে দ্বিগুণ বয়সী কারো আপনি ডাকা এনে দেয়?
বললাম..
--আচ্ছা কিনবো। এইখানে বসে ভালো করে বানান।
লোকটা আমাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে সেখানে বসলো। প্যান্টের পকেট থেকে একটা ব্যাগ বের করলেন তাতে দুইটা রুটি আর একটু গুড়। দুপুরের খাবার হয়তো;আমি খুব কম মানুষকেই এত দ্রুত খেতে দেখেছি। খাওয়া শেষ করে কিছুটা দূরে টিউবওয়েলের দিকে তাকালেন,ভাবলাম পানি খেতে যাবে। কিন্তু গেলেন না পাছে খদ্দের খোয়ান।
--তিনটা দেন।
লোকটার মুখে খুশির আভা আর চোখে হাসি দেখতে পেলাম। হ্যা,চোখে হাসি!
 মানুষের মুখের হাসি কৃত্রিম হতে পারে,কিন্তু চোখের হাসি না। সেই হাসি দেখে মন জুড়াল,মেসে ফিরে আরো দুই বন্ধুর হাসি দেখতে পেলাম। তিনটের মধ্যে দুটো আমড়া যে তাদের দিয়েছিলাম






T

H

E

E

N

D

মন্তব্যসমূহ