ব্যর্থ প্রেমের গল্প
লেখা :সুলতানা
মেয়েটির সাথে এই ৭বছর পর দেখা হলো।
আমি গাড়ির গ্লাসটা নামিয়ে সুলতানা কে দেখছি।নীল রঙের শাড়ি পরে রাস্তার ফুটপাত এ দাড়িয়ে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছে।শুনেছি ওর বর বড় একটা সড়ক দূরঘটনা হবার পর থেকে তেমন কাজ করতে পারেনা।
ওর সাথে আমার ৫বছরের সম্পর্কে আমার মনে নেই ও আমাকে কখনো আঘাত করেছে কি না।
বেকার-বাউন্ডুলে
এটা -সেটা উপহার দিয়ে সবসময় মন ভালো করার চেষ্টা করতো মেয়েটা।বিনিময়ে আমি ওকে একটা ফুল ও দিতে পারিনি।
মনে পরে এখনো প্রায় ৭-৮দিন রাতে না খেয়ে সেই টাকা দিয়ে ওকে একটা পায়েল কিনে দিয়েছিলাম।এক পোষাক পরে ওর কাছে যেতে যেতে কি লজ্জাতেই না পরতাম।মাঝে মাঝে মেস এর ছোট ভাইদের শার্ট পরে যেতাম আর গিয়ে সুলতানা কে বলতাম এটা আমার জামা না।
ও তখন রেগে বলতো তোমার না তাহলে পরেছো কেন?তুমি যেমন তেমন ই ভালোবাসি। তোমার বাহিরের পোশাক আর রুপ সিজ্জা কে নয়।
।আর কখনো আমার সামনে এসব পোশাক পরে আসবেনা,, আমার খারাপ লাগে।
মেয়েটা নিজেকে ছোট করলেও আমাকে ছোট করতোনা কখনো।নিজে চুড়ি কিনে বান্ধবীদের কাছে বলতো আমি দিয়েছি।বান্ধবী মহল এ আবার এসব নিয়ে খুব গননাক্রম চলতে থাকে।
সুলতানা মুখ শুকনো করে বলেনি না সায়মন আমায় কিছু দেয়না।
কিভাবে পারে,এতো নিখুঁত অভিনয় করে নিজের বুকের ঘা লুকিয়ে রাখতে!
এরপর হুট করেই ওর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ওকে আমি ই বলি বিয়ে করে নেও।কারন ওর ভরণ পোষণ এর দায়িত্ব নেয়া যে তখন আমার পক্ষে সম্ভব নয়!
এই কথা সুলতানা কিছুতেই মেনে নিবেনা তাই আমার এক কাজিন এর পিক আমার পিক ইডিট করে ওকে দেখিয়ে বলে ছিলাম আমি ওকে ভালবাসি।
সুলতানা তখন শুদু বলেছিল,, তোমার প্রতি কোন অভিযোগ নেই। শুধু তুমি ভাল থাকো এটাই কাম্য।তার চুখ ছল ছল করছিল তবুও কথা গুলো হাসি মুখে বলে বিদায় নিল।
এরপর,,,
বিয়ে করে নিলো..তারপর থেকে আমার সাথে একবার ও যোগাযোগ করেনি সুলতানা।
আজ আমার সব আছে শুধু নেই সুলতানা।
গাড়ি থেকে নেমে শার্ট এর কলারটা এলোমেলো করে সুলতানার সামনে গিয়ে দাড়ালাম।
মেয়েটা আমায় দেখে না চেনার ভান করেনি।
মুখ মলিন করে জিজ্ঞেস করলো কেমন আছো?
আমি শুধু ওর শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।
কত অযত্নের সাক্ষী এ মুখ!কাজল নেই,নেই টিপ আর শখের চুড়ি ও নেই হাতে।
আমি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে উত্তর দিলাম,নিজের যত্ন নেও না কেন?
সুলতানা : আমি কি আর আগের মতন বাচ্চা আছি?আমি যে এখন বাচ্চার মা।
আমি: তো বর কেমন আছে?
সুলতানা : ও বিজনেস এর কাজে বাইরে গেছে।
আমি অবাক হয়ে মেয়েটির ধৈর্য দেখছি।আজ ও সে তার বরকে ছোট করেনি আমার কাছে।ঠিক আগের মতন নিখুঁত অভিনয় দিয়ে বরকে হাজার প্রশ্নের অধিনে রাখছে।মেয়েরা বুঝি এমন ই হয়।
সুলতানা : তুমি কি করো এখন?
আমি হেসে বললাম,এখনো বেকার।কাজ পাইনা।
সুলতানা হাসি দিল।
আমি: কি বেপার হাসছো যে?
সুলতানা : এমনেই।যাই এখন।
শার্ট এর কলার ঠিক করে নেও।
আমি: আর বলোনা মেস এর ভাইয়ের শার্ট।
এই বলে কলার ঠিক করতে করতে আসতে নিলাম।
পিছন থেকে সুলতানা বলে উঠলো নীল গাড়ি আমার পছন্দের ছিল।গাড়ি টা নিশ্চই মেসেই ভাইয়ের না?
আমি ওর দিকে হতবম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছি।
সুলতানা : তুমি ঠিক আগের মতন ই আছো মিথ্যে বলতে গেলে গলা বসে যায়। গাড়ি -বাড়ি করেছো বিয়ে করোনি?
আমি : না।
সুলতানা : করে নেও। এত বড় মিথ্যে বলে আমাকে জিবন থেকে না তাড়ালেও পারতে।আমি এখন আসি।
আমি সুলতানা কে ডেকে বললাম যার পছন্দে এ গাড়ি কেনা সে তো আজ রাস্তা হেটে পাড় হয়।
আমি কি করে অন্যকে গাড়ি তে ওঠাই?
সুলতানা আমার দিকে এক রাশ বিষণ্ণতা নিয়ে তাকিয়ে আছে।আজ আর ওর চোখ ছল ছল করছেনা বরং ওর ছেহারা আমার কাছে ক্রমানয়ে ঝাপ্সা হয়ে আসছে।
সুলতানা চলে গেল।আমি একবার সাহস করেও বলতে পারলাম না সুলতানা এ সমাজ-এ দুনিয়া ছেড়ে আমার হাত ধরতে পারবেনা?
আমি পারিনি জোর করে হাত চেপে ধরে বলতে আমি আর থাকতে পারছিনা তোমার স্মৃতি নিয়ে।
আমার জীবনে যে তুমি ছাড়া কেউ নেই, কেউ নেই।
আজো তোমাকেই ভালবাসি আর সারা জীবন বাসবো।
বুক ফেটে কান্না বের হতে চাচ্ছে বুকের পাজর গুলো ভেংগে যাচ্ছে বিরহ ব্যাথায়।
আমি দাড়িয়ে রইলাম ওর আস্তে আস্তে সুলতানা আমার দৃষ্টি সীমানার বাহিরে চলে গেল।
এ কড়া সমাজের কাছে বার বার হেরে যাবার নাম ই ভালোবাসা।
দারীদ্র তার কারনে নিজের ভালবাসাকে বলি দেওয়ার নামই ভালবাসা।
সুলতানা মুখ শুকনো করে বলেনি না সায়মন আমায় কিছু দেয়না।
কিভাবে পারে,এতো নিখুঁত অভিনয় করে নিজের বুকের ঘা লুকিয়ে রাখতে!
এরপর হুট করেই ওর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ওকে আমি ই বলি বিয়ে করে নেও।কারন ওর ভরণ পোষণ এর দায়িত্ব নেয়া যে তখন আমার পক্ষে সম্ভব নয়!
এই কথা সুলতানা কিছুতেই মেনে নিবেনা তাই আমার এক কাজিন এর পিক আমার পিক ইডিট করে ওকে দেখিয়ে বলে ছিলাম আমি ওকে ভালবাসি।
সুলতানা তখন শুদু বলেছিল,, তোমার প্রতি কোন অভিযোগ নেই। শুধু তুমি ভাল থাকো এটাই কাম্য।তার চুখ ছল ছল করছিল তবুও কথা গুলো হাসি মুখে বলে বিদায় নিল।
এরপর,,,
বিয়ে করে নিলো..তারপর থেকে আমার সাথে একবার ও যোগাযোগ করেনি সুলতানা।
আজ আমার সব আছে শুধু নেই সুলতানা।
গাড়ি থেকে নেমে শার্ট এর কলারটা এলোমেলো করে সুলতানার সামনে গিয়ে দাড়ালাম।
মেয়েটা আমায় দেখে না চেনার ভান করেনি।
মুখ মলিন করে জিজ্ঞেস করলো কেমন আছো?
আমি শুধু ওর শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।
কত অযত্নের সাক্ষী এ মুখ!কাজল নেই,নেই টিপ আর শখের চুড়ি ও নেই হাতে।
আমি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে উত্তর দিলাম,নিজের যত্ন নেও না কেন?
সুলতানা : আমি কি আর আগের মতন বাচ্চা আছি?আমি যে এখন বাচ্চার মা।
আমি: তো বর কেমন আছে?
সুলতানা : ও বিজনেস এর কাজে বাইরে গেছে।
আমি অবাক হয়ে মেয়েটির ধৈর্য দেখছি।আজ ও সে তার বরকে ছোট করেনি আমার কাছে।ঠিক আগের মতন নিখুঁত অভিনয় দিয়ে বরকে হাজার প্রশ্নের অধিনে রাখছে।মেয়েরা বুঝি এমন ই হয়।
সুলতানা : তুমি কি করো এখন?
আমি হেসে বললাম,এখনো বেকার।কাজ পাইনা।
সুলতানা হাসি দিল।
আমি: কি বেপার হাসছো যে?
সুলতানা : এমনেই।যাই এখন।
শার্ট এর কলার ঠিক করে নেও।
আমি: আর বলোনা মেস এর ভাইয়ের শার্ট।
এই বলে কলার ঠিক করতে করতে আসতে নিলাম।
পিছন থেকে সুলতানা বলে উঠলো নীল গাড়ি আমার পছন্দের ছিল।গাড়ি টা নিশ্চই মেসেই ভাইয়ের না?
আমি ওর দিকে হতবম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছি।
সুলতানা : তুমি ঠিক আগের মতন ই আছো মিথ্যে বলতে গেলে গলা বসে যায়। গাড়ি -বাড়ি করেছো বিয়ে করোনি?
আমি : না।
সুলতানা : করে নেও। এত বড় মিথ্যে বলে আমাকে জিবন থেকে না তাড়ালেও পারতে।আমি এখন আসি।
আমি সুলতানা কে ডেকে বললাম যার পছন্দে এ গাড়ি কেনা সে তো আজ রাস্তা হেটে পাড় হয়।
আমি কি করে অন্যকে গাড়ি তে ওঠাই?
সুলতানা আমার দিকে এক রাশ বিষণ্ণতা নিয়ে তাকিয়ে আছে।আজ আর ওর চোখ ছল ছল করছেনা বরং ওর ছেহারা আমার কাছে ক্রমানয়ে ঝাপ্সা হয়ে আসছে।
সুলতানা চলে গেল।আমি একবার সাহস করেও বলতে পারলাম না সুলতানা এ সমাজ-এ দুনিয়া ছেড়ে আমার হাত ধরতে পারবেনা?
আমি পারিনি জোর করে হাত চেপে ধরে বলতে আমি আর থাকতে পারছিনা তোমার স্মৃতি নিয়ে।
আমার জীবনে যে তুমি ছাড়া কেউ নেই, কেউ নেই।
আজো তোমাকেই ভালবাসি আর সারা জীবন বাসবো।
বুক ফেটে কান্না বের হতে চাচ্ছে বুকের পাজর গুলো ভেংগে যাচ্ছে বিরহ ব্যাথায়।
আমি দাড়িয়ে রইলাম ওর আস্তে আস্তে সুলতানা আমার দৃষ্টি সীমানার বাহিরে চলে গেল।
এ কড়া সমাজের কাছে বার বার হেরে যাবার নাম ই ভালোবাসা।
দারীদ্র তার কারনে নিজের ভালবাসাকে বলি দেওয়ার নামই ভালবাসা।
সমাপ্ত

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন